"রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই, কোনো সংগঠনকে সুবিধাও দিইনি": বিদায়ী বক্তব্যে নিয়াজ আহমেদ খান
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রায় দেড় বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করে বিদায় নিচ্ছেন অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান। অধ্যাপক এ বি এম উবায়দুল ইসলামকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ার পরদিন মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিদায়ী বক্তব্য তুলে ধরেছেন তিনি।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান
বিদায়ী বক্তব্যে অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান দ্ব্যর্থহীনভাবে জানান, তাঁর কোনো দলীয় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি বলেন, কেউ যদি কোনো প্রমাণ পান, তাঁকে জানাতে অনুরোধ করেন। একইসঙ্গে কোনো ছাত্রসংগঠনকে সুবিধা বা অসুবিধা করেননি বলেও দাবি করেন। তবে উল্লেখযোগ্য যে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তাঁর বিরুদ্ধে ডাকসু নির্বাচনসহ বিভিন্ন সময়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিল।
আপৎকালীন মিশন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ
অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ জানান, ২০২৪ সালের আগস্টের শেষ দিকে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্ব ছেড়ে ছাত্রদের অনুরোধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ ছিল এবং প্রশাসনিক কাঠামো অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। এই পরিস্থিতি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থিতিশীলতায় ফেরানোই ছিল তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
তিনি বলেন, উপাচার্যের পদটি তাঁর কাছে একটি 'আমানত' ছিল, কখনোই এটিকে চাকরি মনে করেননি। নিয়োগপত্রেও এটি সাময়িক নিয়োগ হিসেবে উল্লেখ ছিল।
অর্জন ও উদ্যোগ
দায়িত্বকালে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য অর্জনের কথা তুলে ধরেন সদ্য সাবেক এই উপাচার্য। সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে তিনি প্রায় ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার 'অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প' উল্লেখ করেন। এই প্রকল্পের আওতায় একাধিক একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আবাসন এবং প্রশাসনিক ভবন নির্মাণকাজ বাস্তবায়নাধীন।
র্যাঙ্কিংয়ে অগ্রগতির বিষয়ে তিনি জানান, কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ২০২৬-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৫৮৪তম স্থান অর্জন করেছে এবং বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক র্যাঙ্কিংয়ে একাধিক বিভাগ প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রে সার্চ কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ, সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম গঠন এবং অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্কৃতি চালুর কথা জানান তিনি। গত ১৭ মাসে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ৬৯ জন প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আবাসিক হলে গণরুম প্রথা বিলুপ্তি, আসন বণ্টনে নীতিমালা প্রণয়ন, অনলাইন সেবা চালু, শাটল পরিবহন এবং মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়নের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়াকেও অর্জন হিসেবে দাবি করেন।
নতুন প্রশাসনের সামনে তিন চ্যালেঞ্জ
বিদায় নেওয়ার আগে নতুন উপাচার্যের সামনে তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেন অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ — উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে পেশাগত দক্ষতা বজায় রাখা, প্রশাসনিক সংস্কার অব্যাহত রাখা এবং আবাসিক হলে দখলদারত্ব ও গণরুম প্রথা পুনরায় ফিরে আসার প্রবণতা প্রতিরোধ করা।
বিদায়ের পথে মূল পদে প্রত্যাবর্তন
সদ্য সাবেক এই উপাচার্য জানান, তিনি তাঁর মূল পদ অর্থাৎ উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে অধ্যাপনায় ফিরে যাচ্ছেন। সহকর্মী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, "অনেক দিন কঠোর পরিশ্রম করেছি, এখন কিছু বিশ্রাম প্রয়োজন।"
নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক এ বি এম উবায়দুল ইসলামের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
তথ্যসূত্র (References)
- • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
- • প্রথম আলো